মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

দুর্যোগ, আপদ এবং বিপদাপন্নতা

দ্বিতীয় অধ্যায়: দুর্যোগ, আপদ এবং বিপদাপন্নতা

 

২.১ দুর্যোগের সার্বিক ইতিহাস

 

সাম্প্রতি বছরগুলোতে সংঘটিত দুর্যোগ এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি

 

ক্রঃ নং

দুর্যোগেরসময়এবংধরণ

উল্লেখ্য  যোগ্য ক্ষয়ক্ষতি

মানুষের প্রান হানির সংখ্যা

মৃত গবাদি পশুর সংখ্যা

সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি (কোটি টাকায়)

০১

২৫শে মে ১৯৮৫ সালে ঘূর্ণিঝড় ও সদ্বীপ উপজেলার উরির চরে জলোচ্ছ্বাস  হয়।

১২৩৫৪

২২২১৫

৭৫.০০

০২

২৯শে এপ্রিল ১৯৯১ এর প্রলয়ণকারী ঘূর্ণিঝড়ঃ

সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয়। প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড় উপকূলীয় দ্বীপ এবং সমগ্র দক্ষিন অঞ্চল লন্ডভন্ড হয়ে যায় । ২০ ফুট উচু জলচ্ছ্বাস  ভাসিয়ে নিয়ে গেছে অসংখ্য মানুষ পশুপাখি এবং বহুকোটি টাকার  সম্পদ ।

৭৮,৬৬৩

২১৫০৯০

২৪,০০০

০৩

১৯শে মে ১৯৯৭ এর প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড়ঃ

সমুদ্র বন্দরে ১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত  ঘোষণা করা হয়। প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে এবং জলোছ্চ্বাসে উপকুলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় । তবে পুর্ব সতর্কতা অবলম্বন ও জনগণকে যথাসময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর ইত্যাদি সমায়োচিত পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে প্রানহানী ও সম্পদের ক্ষয় ক্ষতি অনেক কম হয়েছে।

৬২

১৯৮৬

৫০০

০৪

১১ই জুন ২০০৭ তারিখে ভারী বর্ষনজনিত কারণে  পাহাড়/দেয়াল ধ্বসে প্রাণহানী এবং ঘরবাড়ীর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

১২৭

--

৫.৩৬

০৫

১৫ই নভেম্বর ২০০৭ এর প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড় “সিডর”

সমুদ্র বন্দরে ৮নং মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয়। চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় আঘাত না করায় এখানে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েঝছ। 

২১ জেলে নিখোঁজ

--

৮.৫০

০৬

২রা মে ২০০৮ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় “নার্গিস”

সমুদ্র বন্দরে ৭নং মহাবিপদ সংকেত ঘোষনা করা হয় । ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে । ঘূর্ণিঝড় “নার্গিস” মায়ানমার অতিক্রম করায় বাংলাদেশে ক্ষতি কম হয়েছে।

--

--

--

০৭

১৭ই এপ্রিল ২০০৯ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়“বিজলী”

সমুদ্র বন্দরে ৬নং মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয় । ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে । ঘূর্ণিঝড়টি ভারত অতিক্রম করায় বাংলাদেশে ক্ষতি কম হয়েছে।

০১

--

৬.৫০

০৮

২৫শে মে ২০০৯ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় “আইলা”

সমুদ্রবন্দরে ৭নং মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয় । ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে । ঘূর্ণিঝড় “আইলা”  ভারতে অতিক্রম করায় বাংলাদেশে ক্ষতি কম হয়েছে।

--

--

৯.৫০

০৯

২০শে মে ২০১০ এর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় “লাইলা”

সমুদ্রবন্দরে ৩নং মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয় । ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে । ঘূর্ণিঝড় “লাইলা”  ভারতে অতিক্রম করায় বাংলাদেশে ক্ষতি কম হয়েছে

--

--

--

১০

১৮/০৮/২০০৮ তারিখে খুলশী থানাধীন লালখান বাজার ওয়ার্ডে পাহাড় ধ্বসে জানামালের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়।

১১

--

২.০০

১১

০১/০৭/২০১১ তারিখে খুলশী থানাধীন টাইগারপাস এলাকায় পাহাড় ধ্বসে জানামালের ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়

১৭

--

২.৫

১২

১১/০৭/২০১১ তারিখে মীরসরাই উপজেলাধীন আবুতোরাব বাজার সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৫ জন ছাত্র মৃত্যবরণ করে।

৪৫

--

--

১৩

১৪/০৮/২০১১ তারিখে বিশ্ব ব্যাংক কলোনীতে পাহাড় ধ্বসে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

০২

--

০.৫

১৪

২৪/০৬/২০১২ তারিখে পাহাড় ধ্বসে পাহাড়ী ঢল এবং বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

৩৫

--

১০.০

১৫

১১/১০/২০১২ তারিখে মৌসুমী বায়ূর প্রভাবে বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

০৪

--

৩.০

১৬

২৪/১১/২০১২ তারিখে বহদ্দার হাট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের নির্মাণধীন ফ্রাইওভার ধ্বসে দুর্ঘটনায় প্রাণহানী ঘটে।

১৩

--

--

১৭

মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাইদীর ফাঁশির আদেসের প্রেক্ষিতে সহিংসতায় চট্টগ্রাম জেলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়।

০৬

০২

১৯.১৭

১৮

২৮/০৭/২০১৩ তারিখে খুলশী থানাধীন লালখান বাজার ট্যাংকী পাহাড় ধ্বসে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

০২

--

--

১৯

অন্যান্য দুর্যোগ

উপরোক্ত দুর্যোগ ছাড়াও বন্যা, জলাবদ্ধতা, নদী ভাংগন, অগ্নিকান্ড, নৌকাডুবি, বন্য হাতীর আক্রমণ ইত্যাদি দুর্যোগে চট্টগ্রাম জেলা ভুমিকম্পন ঝুঁকিপূর্ণ জেলা।

 

 

 

 

২.২  আপদসমুহ

 

আপদ

অগ্রাধিকার

1.       ঘুর্ণিঝড়  ও জলোচ্ছ্বাস 

2.ঘুর্ণিঝড়  ও জলোচ্ছ্বাস 

3.      বন্যা

২.বন্যা

4.       নদী ভাঙ্গন

৩.নদী ভাঙ্গন

5.      টর্নেডো

৪.পাহাড় ধ্বস

6.      কালবৈশাখী ঝড়

৫.অতিবৃষ্টি

7.      পাহাড় ধ্বস

৬. জলাবদ্ধতা

8.      অতিবৃষ্টি

 

9.      জলাবদ্ধতা

 

10.   মৎস ট্রলার ও নৌকাডুবি

 

11.   বন্যহাতির আগ্রাসন

 

12.   ভুমি

 

 

২.৩ বিভিন্ন আপদ ও তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চিত্র বিস্তারিত বর্ননাঃ

 

ঘুর্ণিঝড়  ও জলোচ্ছ্বাসঃ

 

বন্যা ঃ

চট্টগ্রাম জেলা অতি মাত্রায় একটি বন্যা কবলিত এলাকা। আষাঢ় মাস থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত  বন্যা অব্যাহত থাকে। যার ফলে এলাকায় কৃষি, মৎস, অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, যোগাযোগ প্রভৃতি খাতের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়্। আবাদী জমিতে পলি পড়ার কারণে কোন ফসল চাষ করা যায় না। য়ার ফলে এলাকার প্রায় ১৯৫০০ হেক্টর জমিতে বালি পড়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়। প্রতি বছর কম-বেশী বন্যা হলেও ১৯৮৫, ১৯৯১, ১৯৯৭, ২০০৭, ২০০৯ সালের বন্যা ছিল সবচেয়ে মারাত্নক।

 

নদীভাঙ্গন ঃ

বাশঁখালী, সন্দ্বীপ , আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সিতাকুন্ড, মিরেরসরাই,  উপজেলায় নদীভাঙ্গন বেশী হয়। প্রতি বছর নদীভাঙ্গন অব্যাহত থাকে। আষাঢ় মাস থেকে আর্ষিন মাস পর্যন্ত  নদীভাঙ্গন হয়ে তাকে। ইহার ফলে এলাকার কৃষি ফসল, ঘরবাড়ী, রাস্তা-ঘাট, গাছপালা ব্যাপক হারে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ফলে মানুষের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। মানুষ আশ্রায়হীন হয়ে যায়্ এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়। পশু ও সাঙ্গু নদীতে ভাঙ্গন হচ্ছে। সরকারী ভাবে নদীতে ব্লক দ্বারা বাধঁ ও নদী ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন  এবং বন্যার সময় পানির গতি কমানোর জন্য টি বাধঁ নির্মাণ করা না হলে বিভিন্ন এলাকার সাথে যোগাযোগ কমে যাবে এবং আবাসস্থল বিলীন হয়ে যাবে।

 

কালবৈশাখী ঃ

এই ঝড়ে কাচাঁ, আধা পাকা ঘরবাড়ী, গাছপালা এবং বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। এই ঝড় কম-বেশী হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে নিরাপদ থাকার জন্যঘরবাড়ীগুলো একটু মজবুত করে বানাতে হবে এবং পরিকল্পিতভাবে গাছপালা লাগানোও বন রক্ষাকরতে হবে।

 

অতিবৃষ্টি ঃ

অতি বৃষ্টির কারণে ঘর-বাড়ী ধ্বসে যায়। ফসরের ক্ষতি হয়। ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড় বা দেয়াল ধ্বসে প্রাণহানী হয়ে থাকে। মৎস খামার, পুকুর ভেসে যায়। পশু সম্পদের ক্ষতি হয় এবং পশুর খাদ্যাভাব দেখা দেয়।  পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে এলাকায় ডায়রিয়া দেখা দেয়

লবনাক্ততা ঃ

সমূদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সমদ্রের লবনাক্ত পানি জোয়ারে এবং বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে থাকে। লবনাক্ত প্রবন উপজেলা হলো পটিয়া, আনোয়ারা, বাশঁখালী, বোয়ালখালী, সিতাকুন্ড, মীরেরশ্বরাই , সন্দ্বীপ ।

 

২.৪ বিপদাপন্নতাক্ষমতা

 

আপদ

বিপদাপন্নতা

সক্ষমতা

 

 

ঘুর্ণিঝড়  ও জলোচ্ছ্বাস   / কালবৈশাখী ঝড়

·  অপরিকল্পিত ও অবৈধ ভাবে গাছ-পালা নিধন ।

·  গাছ-পালা নিধনের ফলে বসত-বাড়ীর চারপাশে ঝোপ-ঝাড় জাতীয় গাছপালা না থাকা।

·  অপরিকল্পিত ও দুর্যোগ সহনশীল ঘরবাড়ী  নির্মাণ  না করা।

·  দুর্যোগ সহনশীল ফসলের চাষাবাদে আগ্রহী না হওয়া এবং দুর্যোগ সহনশীল ফসলের চাষাবাদ না করা।

·  এলাকার অবকাঠামো সমূহ নিয়মিত সংস্কার না করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অবকাঠামো তৈরী না করা।

·  এলাকায় কাচা ল্যাট্রিনগুলো দুর্বল ভাবে নির্মাণ

·  গবাদি পশু পাখীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসস্থল না থাকা এবং যেগুলো আছে সেগুলো দুর্বল ভাবে নির্মাণ  ও নিয়মিত সংস্কার না করা।

·  প্রয়োজনের তুলনায় সরকারী / বেসরকারী ভাবে আশ্রয় কেন্দ্রর পরিমান কম থাকা এবং নিয়মিত সংস্কার না করা।

·  বেশী পরিমানে গাছ রোপন করা

·  দুর্যোগ সহনশীল ঘরবাড়ী  নির্মাণ  করা

·  দুর্যোগ সহনশীল ফসলের চাষাবাদ করা

·  বসত-বাড়ীর চারপাশে ঝোপ-ঝাড় জাতীয় গাছপালা রোপন করা

·  কাঁচা ল্যাট্রিনগুলো দুর্যোগ সহনশীল করে নির্মাণ  করা

·  গবাদি পশূর আবাসস্থল দুর্যোগ সহনশীল করে তৈরী করা

·  সরকারী/বেসরকারী উদ্যোগে বহুমূথী আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ  করা

 

 

বন্যা

·  পলি জমে নদীওখালেরনব্যতাহারিয়ে যাওয়া বা নব্যতা নাথাকার ফলে অল্প বন্যাতেই জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকে।

·  বাঁধ নির্মানে সদূরপ্রসারি পরিকল্পনার অভাব এবং চাহিদারতুলনায়কমওদুর্বলবাঁধ নির্মাণ ।

·  বাঁধেরদুধারেগাছলাগানোনাথাকা এবং যেগুলো আছে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ সঠিক ভাবে না করা।

·  বাধের উপর অবৈধ স্থাপনা

·  উচু স্থানে ও দুর্যোগ সহনশীল ঘরবাড়ী নির্মাণ  না করা ।

·  নদীওখালেরনব্যতাবৃদ্ধিরজন্যনিয়মিত ড্রেজিংকরা

·  বাঁধেরদুধারেগাছলাগানো এবং সেগুলো রক্ষনাবেক্ষণের জন্য জনসমষ্ঠি ভিত্তিক উদ্দ্যোগ গ্রহন করা।

·  জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবকে মাথায় রেখে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে চাহিদা অনুযায়ী নতুনকরেবেড়ীবাঁধনির্মাণ । 

·  বাঁধের উপর স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ পুরাতনবাঁধসংস্কার করা।

·  এলাকায়পরিকল্পিতভাবে তুলনামুলক ভাবে উচু স্থানেদুর্যোগসহনশীলঘরবাড়ী  নির্মাণ  করা।

 

নদী ভাঙ্গন

·  নদীর পাড়গুলি ব্লক দিয়ে না আটকানো

·  দুর্বলবাঁধ

·  নদীরধারেব্যাপকভাবে উপকূলীয়বনায়ননাথাকা

·  যেখানেবাঁধআছেতাপ্রায়বিভিন্নঅংশেভাঙ্গা

·  উপকূলীয়এলাকায়নির্ধারিতদূরত্বেঘরবাড়ী  নির্মাণ  করা

·  বাঁধ মেরামতসহবেশীকরেগাছপালালাগানোরসুযোগআছেযামাটিকেশক্তকরতে  সাহায্যকরবে

·  রাস্তারদুধারেগাছরোপণকরা

 

পাহাড়ী ঢল

·  পাহাড় থেকে নির্ধারিত দূরত্বে ঘরবাড়ী  নির্মাণ  না করা

·  লোকজন পাহাড়ী ঢল সম্পর্কে সচেতন না থাকা।

·  ঘরবাড়ী গুলি দূর্যোগ সহনশীল বা মজবুত করে নির্মাণ  না করা।

·  ঘরবাড়ী  পাহাড়ের পাদদেশে ‍নির্মাণ  না করা এবং পাহাড় থেকে নির্ধারিত দূরত্বে ঘরবাড়ী  নির্মাণ

·  ঘরবাড়ী  গুলি দুর্যোগ সহনশীল ও মজবুত করে তৈরী করা

·  পাহাড়ী ঢল সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করা ।

লবনাক্ততা

·  জলবায়ূ পরিবর্তন

·  অপরিকল্পিত ও অবৈধ ভাবে গাছ-পালা নিধন ।

·  লবনাক্ততা সহনশীল চাষাবাদের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া।

·  বেশী পরিমানে গাছ রোপন করা

·  জলবায়ূ পরিবর্তন সম্পর্কে জনসচেনতা গড়ে তোলা।

 


 

২.৫ সর্বাধিক বিপদাপন্ন এলাকা

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদী ভাঙ্গন

ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস

জলাবদ্ধতা

বন্যা

পাহাড়ী ঢল ও পাহাড়ী ধ্বস

লবনাক্ততা

আর্সনিক

০২

ফটিক ছড়ি

 

 

 

 

 

 

 

০৩

বাঁশখালী

 

 

 

 

 

 

 

০৪

লোহাগড়া

 

 

 

 

 

 

 

০৫

বোয়ালখালী

 

 

 

 

 

 

 

০৬

আনোয়ারা

 

 

 

 

 

 

 

০৭

সাতকানিয়া

 

 

 

 

 

 

 

০৮

পটিয়া

 

 

 

 

 

 

 

০৯

সন্দ্বীপ

 

 

 

 

 

 

 

১০

চন্দনাইশ

 

 

 

 

 

 

 

১১

সীতাকুন্ড

 

 

 

 

 

 

 

১২

রাউজান

 

 

 

 

 

 

 

১৩

হাটহাজারী

 

 

 

 

 

 

 

১৪

রাংগুনীয়া

 

 

 

 

 

 

 

১৫

মীরেরস্বরাই

 

 

 

 

 

 

 

 

২.৬.  উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রধান খাতসমূহঃ

 

প্রধান খাত সমূহ

বিস্তারিত বর্ণনা

দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের সাথে সমন্বয়

 

কৃষি

চট্টগ্রাম জেলায় বিভিন্ন দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বছরের বিভিন্ন সময় যে দুর্যোগগুলো হয় তাতে কৃষিখাতে বন্যা, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস , নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢল ও জলাবদ্ধতায় যথাক্রমে প্রায় ২৬%, ১৪%, ৭%, ২১% ও ৯% আবাদী জমির ফসলের ক্ষতি হয়।

 

ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ৬ টি (ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সীতাকুন্ড ও হাটহাজারী) উপজেলার মোট ২৭৫৩১১ একর জমির মধ্যে ৩৬৯২৬ একর জমির ফসল নষ্ট হয়। ৯ উপজেলার মোট ৫৩৮৫৮ একর  ফসলের ক্ষতি হয় । বন্যায় ৯টি (ফটিকছড়ি,লোহাগড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, রাংগুনীয়া ও মীরেরশ্বরাই )   উপজেলার মোট ৮০৯৭৫ একর  ফসলের ক্ষতি হয়। নদী ভাঙ্গনে ৬টি উপজেলার মোট ১১০৯৮৯ একর জমির মধ্যে ৯৫৭০ একর জমি নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে।

·     বেড়ীবাঁধমেরামত করে শক্তবামজবুতকরা

·     পানিনিস্কাশনব্যবস্থাউন্নতকরা

·     আমনধানেরচারাউৎপাদনেবৃষ্টিরপানিব্যবহার

·     জমিতেজৈবসারব্যবহারকরা

·     খালখননওসেচব্যবস্থাউন্নয়নকরা

·    লবন সহিষ্ণু ধানের জাত সম্প্রসারন (বোরো, আমন, আউস)

·    বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

·    কৃষিতে ভরতুকি প্রদান

·    সুদমুক্ত ঋণ প্রদান।

 

 

মৎস্য

চট্টগ্রাম জেলায় বিভিন্ন দুর্যোগে মৎস খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয় । মৎস খাতে  বিভিন্ন দুর্যোগে বন্যা, নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢল  ও জলাবদ্ধতায় যথাক্রমে প্রায় ৫০%, ১৪%, ৩৪% ও ১১% পুকুরের মাছের ক্ষতি হয়। বন্যায় ৬টি উপজেলায় ৯৬৯৭টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং বন্যায় ৭টি উপজেলায় ১৮০২৮জন মৎসজীবি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে ৬টি উপজেলার ১৭৮৬৪ জন মৎসজীবির ক্ষতি হয়েছে।নদীভাঙ্গনে ৬টি উপজেলায় ৭৪৯৪ জন মৎসজীবি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

·     পুকুরের পাড় ঊচুকরণ

·     বাঁধমেরামতওমজবুতকরতেহবে

·     মৎস্যচাষীদেরজন্যপ্রশিক্ষণ  এরব্যবস্থাকরতেহবে

·     তিনস্তরবিশিষ্টমৎসচাষকরা

·     বন্যাওজলাবদ্ধতারসময়জালবেষ্টিতরাখা

·     ক্ষতিগ্রস্থদরিদ্রমৎস্যচাষীদেরজন্যসহায়তাপ্রদানকরা

·     মাছের বাজারজাত উন্নতকরণ

 

পশুসম্পদ

বন্যা ও পাহাড়ী ঢল যথাক্রমে প্রায় ৩৪%, ১৯% পশূপাখির ক্ষতি হয় । ফটিক ছড়ি, লোহাগড়া, সাতকানিয়া ও সীতাকুন্ড বন্যায় মোট ৩৬৫৭১২ পশুপাখি ক্ষতিগ্রস্থ হয় । ১৯৯১ সালের চট্টগ্রাম জেলার সিতাকুন্ড ও পটিয়ায়  উপজেলায়  ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে  ২৭৩০৯০ পশুপাখি মারাত্নক  ক্ষতি হয়।  দরিদ্র পরিবারগুলোতে গৃহপালিত পশুপাখি আমিষ ও অর্থের যোগান দেয়। পশু সম্পদের উপর অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল। গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরূ কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। বিভিন্ন দুর্যোগে পশু সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি  গ্রামীন জনগণের জীবনে মারাত্নক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। এত দরিদ্র পরিবারগুলো আরো দারিদ্রতার মধ্যে জীবন-যাপন করে।

·     মাটিরকিল্লানির্মাণ  করা

·     সরকারীপতিত/খাসজমিতেগবাদিপশুরচারণ ভূমিতৈরীকরা

·     আপদসহনশীলসংকরজাতীয়পশুপাখীচাষেউদ্ধুদ্ধকরা

·     পশুরটিকাসরবরাহনিশ্চিতকরা

·     গবাদী পশুর আবাস্থল দুর্যোগ সহনশীল করে তৈরী করা

·     গবাদী পশুর রোগ ব্যাধি ও চিকিৎসা সম্পর্কে লোকজনকে সচেতন করা

·     গবাদী পশুর খাদ্য প্রক্রিয়া জাতকরণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা

 

ঘরবাড়ী  ও অবকাঠামো

বিভিন্ন দুর্যোগে চট্টগ্রাম জেলায় ঘরবাড়ী ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতি হয় বিশেষ করে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ,  বন্যায় এবং পাহাড়ী ঢলে কাচা ঘরবাড়ীর অধিকাংশই বিধ্বস্ত হয়। চট্টগ্রাম জেলায়  ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ,  বন্যায় এবং পাহাড়ী ঢলে যথাক্রমে ৫৬%,  ২৮% ও ২৭% ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নদীভাঙ্গনে লোহাগড়া, হাটহাজারী ও মীরেরস্বরাই এ ২৫৫৬৩টি পরিবারের ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে আশ্রয়হীন হতে পারে। ৫টি উপজেলায় ঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে  এবং বন্যায় যথাক্রমে ১৫২৯২০ ও ৮২৮০২ কাঁচা ঘরবাড়ীর ক্ষতি হয়েছে। ৩৬৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়। ৪৭৪ কি.মি. কাচঁ ও পাঁকা রাস্তার ক্ষতি হয়। বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১১০৫ কি.মি. কাচাঁ রাস্তা ও পাঁকা রাস্তা  এবং ৩১১ টি কালভার্ট ও ব্রীজ ৫৭৯ টি  ক্ষতি হয়েছে। লোহাগড়া ও মীরেরশ্বরাই মীরেরশ্বরাই  উপজেলায়  পাকাসহ, মোট ১৬৮৩৫ টি ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বেশকিছু  অবকাঠামোওর ক্ষতি হয়েছে।

·     ঘরবাড়ীসহ সকল অবকাঠামো (স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দীন, অফিন ইত্যাদি)  সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের চেয়ে উঁচুতেওপাকাঅবকাঠামো নির্মাণ।

·     ঘরবাড়ীসহ সকল অবকাঠামো (স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দীন, অফিন ইত্যাদি)    ঝড়  ও জলোচ্ছ্বাস  সহনশীল করে নির্মাণকরা

·     নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্বল্প খরচের ঘরবাড়ীও বিভিন্ন অবকাঠামে নির্র্মাণ করা ।

·     রাস্তাউঁচুওপাকাকরা

·     প্রয়োজনীয়কালভার্টওব্রীজনির্মাণকরা

·     পর্যাপ্তসাইক্লোনসেন্টারনির্মাণ করা

·     অবকাঠামোস্থাপনারচারদিকে, রাস্তাওখালসমূহেরদুইধারেবৃক্ষরোপনকরা

·     সকল  অবকাঠামো দুর্যোগ সহনশীল করে নির্মাণ করা

·     ঘরবাড়ী সহ সকল অবকাঠামোর চারিদিকে  বেশী বেশী গাছ লাগানোর জন্য উদ্বুদ্ধ করা  ।

পয়ঃনিষ্কাশন

 

চট্টগ্রাম জেলায় মোট কাচাঁ পায়খানার ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস  এবং বন্যা ৪০% ও ২৯% ক্ষতিগ্রস্থ হয় । এবং পাহাড়ী ঢলে প্রায় ২৭% পায়খানা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।  বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাওয়ার ফলে পানি দূষিত হয়ে য়ায়। এতে বিভিন্ন পারিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব  ঘটে। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে  আক্রান্ত এলাকায় ডায়রিয়াসহ কলেরা, আময়শা, জন্ডিস ও বিভিন্ন চর্ম রোগ দেখা যায়। প্রতি বছর  বিভিন্ন দুর্যোগে ৩%-৬% লোক বিভিন্ন রোগে হয় ।

·     পায়খানাসর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের চেয়ে উঁচুতেওপাকাপায়খানা নির্মাণ।

·     টিউবয়েল বন্যা লেভেলের চেয়ে উঁচুতে নির্মাণ টিউবয়েলের গোড়া পাকা করা।

·     পায়খানা  ঝড়  ও জলোচ্ছ্বাস  সহনশীল করে নির্মাণকরা

·     নদী ভাঙ্গন এলাকায় স্বল্প খরচের পায়খানা নির্র্মাণ

 

 

গাছ পালা

 

 

১৯৯১ সালের ঝড়ে চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি উপজেলায় (ফটিক ছড়ি, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সীতাকুন্ড)  মোট ২১৭২৩৬ পাছপালা ও ৪৪৭ নার্সারী  মারাত্নকভাবে ক্ষতি হয় । বন্যায় ৬টি উপজেলায় প্রায় ৩৯১১৭১ টি গাছ ও ১২৪৭টি নার্সারী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবং পাহাড়ী ঢলে সিতাকুন্ড, চন্দ্রনাইশ ও সীতাকুন্ড মোট ৮৬০০ গাছ ও ৪৫২ টি নার্সারীর ক্ষতি হয়েছে।

·      বড় বড় ঝড় হাওয়া সহনশীল গাছ, যেসব গাছের শিকড় মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করে সেসব গাছ বাড়িরআশেপাশে, রাস্তার/বাঁধ/খাস জমি বা পতিত জমিতে  লাগানোর ব্যবস্থা করা ।

·      বড় বড় গাছ যা শক্তিশালী ঝড়েও ক্ষতি কম হয় এমন গাছের ব্যাপকভাবে বনায়ন করা।

·      দীঘ দিন বন্যার পানি সহনশীল বৃক্ষ রোপন করা।

·      লবনাক্ততা সহনশীল বৃক্ষ রোপন করা।

·      বাড়িরআশেপাশেএবয় ফাকা জায়গায় বেশী বেশী গাছ লাগানোর জন্য এলাকা বাসীকে উদ্বুদ্ধ করা  এবং পরিবেশবিষয়েসচেতনতাবৃদ্ধিকরা

·      অবৈধ্যভাবেগাছকাটানিয়ন্ত্রণকরাজন্যআইনগতব্যবস্থাগ্রহনওপ্রয়োগকরা 

২.৭ সামাজিক মানচিত্র

chittagong(1).jpg

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 


 

২.৮ আপদ ও ঝুঁকি মানচিত্র

Chittagong Mag Risk6.jpg

 


 

২.৯ আপদের মৌসুমী দিনপুঞ্জিঃ

ক্র.নং

আপদ সমূহ

মাসের নাম

বৈশাখী

জৈষ্ঠ্য

আষাড়

শ্রাবন

ভাদ্র

আশ্বিন

কার্তিক

অগ্রহায়ন

পৌষ

মাঘ

ফাল্গুন

চৈত্র

ঘুর্ণিঝড়

জলোচ্ছ্বাস  

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বন্যা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নদী ভাঙ্গন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পাহাড়ী ঢল

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দিনপুঞ্জিবিশ্লেষণঃ

5

বাংলাদেশে চট্টগ্রাম জেলা একটি দুর্যোগ প্রবন এলাকা। এলাকায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহরে কাজ চলা কালে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, ঘূর্নীঝড় ও জলোচ্ছ্বাস , পাহাড়ী ঢল, বন্যা, নদী ভাঙ্গন,  কাল বৈশাখী ঝড় ইত্যাদি আপদ এ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বছরের কোননা কোন সময় প্রয়সই ঘটে থাকে। উপরে রেখা চিত্রের (দিনপঞ্জি) মাধ্যমে প্রধান আপদ গুলির ঘটার সময় দেখানো হয়েছে । রেখা চিত্রের আলোকে নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলঃ

·   ঘুর্ণিঝড়  ও জলোচ্ছ্বসঃ  স্থানীয় লোকজনের সংঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, কাল বৈশাখী ঝড় একটি প্রাকৃতিক আপদ, যাহা প্রতি বছর এলাকায়  হয়ে থাকে । ফলে এলাকায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতি সাধন হয় । এট সাধারনত  বৈশাখ থেকে জৈষ্ঠ্য মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে।

·   বন্যাঃ নদী/খালের তীরবর্তী উপজেলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে  প্রায় প্রতি বছরই বন্যা ঘটে  থাকে। এখানে সাধারনত আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত বন্যা হয়ে থাকে ।

·   নদী ভাঙ্গনঃ এলাকা থেকে জানা যায় যে, নদী ভাঙ্গন এই এলাকায় একটি বড় প্রাকৃতিক আপদ । এটি প্রতি বছর বসতবাড়ি ও ফসলী জমি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে । এটি সাধারনত ভাদ্রমাস থেকে কার্তিকমাস পর্যন্ত এটি হয়ে থাকে ।

·   পাহাড়ী ঢলঃ চট্টগ্রাম জেলার অধিকাংশ উপজেলায় পাহাড়ী এলাকা রয়েছে তবে বিশেষ করে পাহড়িী ঢল ফটিকছড়ী, রাউজান, হাটহাজারী, বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগড়া সহ চট্টগ্রাম মহানগরীকে বেশী ঘটে থাকে। এই এলকাকায় বর্ষা মৌসুমে প্রতিনিয়ত পাহাড়ী ঢলে  আপদটি  ঘটে থাকে যার ফলশ্রতিতে বিভিন্ন উপজেলা সমূহে প্রান হানি সহ সম্পদের ক্ষতি সাধন হয়ে থাকে । এঅঞ্চলের  আপদগুলির মধ্যে পাহাড়ী ঢল একটি অন্যতম । সাধারনত আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত পাহাড়ী ঢল হয়ে থাকে । 

 

২.১০ জীবিকার মৌসুমী দিনপঞ্জি

 

ক্র.নং

জীবিকার উৎস

মাসেরনাম

বৈশাখী

জৈষ্ঠ্য

আষাড়

শ্রাবন

ভাদ্র

আশ্বিন

কার্তিক

অগ্রহায়ন

পৌষ

মাঘ

ফাল্গুন

চৈত্র

কৃষি

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মৎস্য

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পশুপালন

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ব্যবসায়ী

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

ভটভটি, ভ্যান চালক

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

দিন মজুর

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

২.১১ জীবন এবং জীবিকা সম্পর্কিত বিপদাপন্নতা

 

ক্র.নং

জীবিকাসমূহ

আপদ

ঘুর্ণিঝড়  জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

নদীভাঙ্গন

জলাবদ্ধতা / অতিবৃস্টি

পাহাড়ী ঢল

লবনাক্ততা

কৃষি

 

 

 

 

 

 

প্রানীসম্পদ

 

 

 

 

 

 

ব্যবসায়ী

 

 

 

 

 

 

মৎস্য

 

 

 

 

 

 

দিনমজুর

 

 

 

 

 

 

ভটভটি, ভ্যানচালক

 

 

 

 

 

 

 

২.১২  খাত ভিত্তিক আপদ ও ঝুঁকির বর্ননাঃ

 

জেলার বিপদাপন্ন খাতসমূহ চিহ্নিতকরণঃ

 

আপদসমূহ

বিপদাপন্নসামাজিকউপাদানসমূহ

কৃষি

মৎসসম্পদ

ঘরবাড়ী

গাছপালা

পশুসম্পদ

রাস্তাঘাট / অবকাঠামো

স্বাস্থ্য

পয়ঃনিস্কাশন

ঘুর্ণিঝড়  জলোচ্ছ্বাস

 

 

 

 

 

 

 

 

বন্যা

 

 

 

 

 

 

 

 

নদী ভাঙ্গন

 

 

 

 

 

 

 

 

জলাবদ্ধতা / অতিবৃস্টি

 

 

 

 

 

 

 

 

পাহাড়ী ঢল

 

 

 

 

 

 

 

 

লবনাক্ততা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

চট্টগ্রাম জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরী করতে গিয়ে আমরা ৯ টি উপজেলার আপদ ও এর খাতভিত্তিক ক্ষয়-ক্ষতির হিসাবের উপর ভিত্তি করে তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে জেলার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার খাতভিত্তিক ক্ষয়-ক্ষতির বর্ননা ও বিশ্লেষন করে এই পরিকল্পনাটি তৈরী করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘরনী ও সুশিলনকর্তৃক প্রণিত উপজেলা ভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার তথ্যের সহযোগিতাও  নেওয়া হয়েছে।

কৃষি

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদি ভাঙ্গন

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

লবনাক্ততা

জলাবদ্ধতা

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০২

ফটিক ছড়ি

১৬০০০ একর জমি প্রায় ৩২৯০ একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

৬৩৮৭৮ একর জমি প্রায় ২১৯১৩ একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

৬৩৮৭৮ একর জমি প্রায় ২১৯১৩ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয়

৪২১৬৮ একর জমি প্রায় ১২৩৬৩ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয় ।

৪৩৭৬৭ একর জমি প্রায় ৫৪৭  একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

 

০২

লোহাগড়া

৭১৯ একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

৯৫৫ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয়

১২৬৯৭ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয়

৪৮০১ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয় ।

-

৭৩০ একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

০৩

সাতকানিয়া

২৫৯২০ একর জমি প্রায় ৯৫০ একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে এবং ৭৫ একর জমি নদীর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

(কালবৈশাখী ঝড়ে) ৩০৩১০ একর জমির মধ্যে ২৭৮৯ একর ফসলের ক্ষতি ক্ষতি  হয়

৩৭০৩৬ একর জমি প্রায় ৪১৮০ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয়

২৬৯৯১ একর জমি প্রায় ৪০০৩ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয় ।

 

 

০৪

পটিয়া

পটিয়া উপজেলায় কণফুলী নদী প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে কিছু ইউনিয়নে মোট ৫৩৪০ একর ফসলি জমির মধ্যে প্রায় ২২৩০ জমির ফসল ও জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় ।

(কালবৈশাখী ঝড়ে) ৫৪৯৮২ একর জমির প্রায় ৫৯৯৪  একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয়

১২১৪০ একর ফসলি জমি  প্লাবিত হয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতি হয়ে থাকে ।

৫১৪৯ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয় ।

 

পটিয়া উপজেলাটি কর্ণফুলী নদীর নিকটবতী হওয়ায় এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঢলের কারণে ব্যাপকভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে থাকে । ফলে মোট ২৪১২০ একর জমির মধ্যে প্রায় ১৩৩২ একর জমির ফসল জলাবদ্ধতায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতি হয়ে থাকে ।

০৫

চন্দনাইশ

২২১২০ একর জমি প্রায় ১১২৫একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে এবং ৭৫ একর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে

(কালবৈশাখী ঝড়ে) ৩৭৫২৬ একর জমির প্রায় ২২০৬ একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয় ।

৩৭৫২৬একর জমির প্রায় ২৫৮০ একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

২৪৭৯১ একর জমি প্রায় ৩৭৮৩একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

 

 

০৬

সীতাকুন্ড

১৯৬৫৫ একর জমি প্রায় ৭৮০ একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

(কালবৈশাখী ঝড়ে) ৪৩৭৬৭ একর জমির প্রায় ১১২২   একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয় ।

৩৪১০ একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

১৮৬৫ একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

 

 

০৭

হাটহাজারী

২১৯৫৪ একর জমির প্রায় ১১৯৫একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

৪৪৮৪৮একর জমির প্রায় ২৯০২একর জমির ফসলর ক্ষতি ক্ষতি  হয়

৪০৩১৬ একর জমির প্রায় ১৭৬২৫একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয়

৭৩২৫ একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

-

২৯০৮৫ একর জমির প্রায় ৩৩৭৫একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

০৮

রাংগুনীয়া

৮৭৫ একর জমির ফসল ও জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায় ।

(কালবৈশাখী ঝড়ে) ১২০৬   একর জমির ফসলের ক্ষতি  হয় ।

৩৪১০ একর জমির ফসলর ক্ষতি হতে পারে।

 

৩৪১০ একর জমির ফসলর ক্ষতি  হয় ।

 

 

 

৯৫৮ একর জমির কৃষি কাজে ক্ষতি হয়।

 

 

০৯

মীরেরশ্বরাই

 -

 

ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস হলে ৫৯৭৮ হেক্টর (১৪৭৭১  একর) জমির ফসল ক্ষতি হয় ।

বন্যা হলে ১২৩০  হেক্টর (৩০২০ একর)জমির ফসল  ক্ষতি হয় ।

২৫৮৩ হেক্টর (৬৩৪২.৫ একর) জমির ফসল ক্ষতি হয়

 

 

 

পয়ঃনিস্কাসন

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০১

ফটিক ছড়ি

মোট ৭০০০০টি পায়খানার মধ্যে প্রায় ১৩২০০ টি পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

৭০০০০টি পায়খানার মধ্যে ২৩০০০ কাঁচা পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

৭০০০০টি পায়খানার মধ্যে ৯২৬১ টি কাঁচা পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

০২

লোহাগড়া

 

৯১৬০০ টি পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

 

০৩

সাতকানিয়া

৪৬,৭৩৮ টি কাঁচা পায়খানার মধ্যে প্রায় ৩০,০০০টি কাঁচা পায়খানার ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোট ৫২,১৮৭ টি পায়খানা মধ্যে ২০,৫০০ টি কাঁচা পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

মোট ৫২,১৮৭ টি পায়খানা মধ্যে ২৩,১৯৫ টি কাঁচা পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

০৪

পটিয়া

 

৯৭৫০০ মধ্যে ৫৬৫২৪  টি পায়খানার ক্ষতি হতে পারে

 

০৫

চন্দনাইশ

মোট ২৪০৬৬ টি পায়খানার মধ্যে প্রায় ১৩২০০ টি পায়খানার ক্ষতি হতে পারে ।

 

 

০৬

সীতাকুন্ড

 

৬৯৩১৫ মধ্যে ৪০৩৪৮টি পায়খানার ক্ষতি হতে পারে

 

০৭

হাটহাজারী

 

বন্যায় হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দ্দন, ছিপাতলী, গড়দুয়ারা, দক্ষিণ মাদার্শা, মেখল, শিকারপুর ও বুড়িশ্চর ইউনিয়নগুলোর কাচাঁ পায়খানার অধিকাংশই  ক্ষতি হয়। এই উপজেলায় মোট ২৯০২০ কাচাঁ পায়খানার মধ্যে প্রায়  । বন্যায় প্রায় সব কাচাঁ ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রায় ২০০০ পায়খানার ক্ষতি হয়।

 

 


 

অবকাঠামো

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদি ভাঙ্গন

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

জলাবদ্ধতা

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০১

ফটিক ছড়ি

 

৩০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মধ্যে ৭৫-৪০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

১১৭৩ কিঃমিঃ কাঁচা  ও  ১৪৫ কিঃমিঃ এইচবিবি  রাস্তার মধ্যে ৮০০ কি: মি: কাঁচা ও ৮০ কি: মি: এইচবিবি রাস্তা এবং ৪১৫টি কালভার্ট মধ্যে প্রায় ১০১ টি কালভার্ট ক্ষতি হতে পারে।

২০৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হতে পারে।

 

০২

লোহাগড়া

 

 

২২ কিঃমিঃ কাঁচা,  এইচবিবি ১৮ কিঃমিঃ ও ১৬ কিঃমিঃ পাকা কিঃমিঃ রাস্তা ক্ষতি হতে পারে। ১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, ৫ হাটবাজারের  ক্ষতি হতে পারে।

 

 

০৩

সাতকানিয়া

প্রায় ৪৮কিঃমিঃ রাস্তা ডুলু খাল ও শঙ্খনদীর প্রবল স্রোতের কারণে  ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ১০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২৫-৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখানে ১০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২৫-৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রায় ৬২ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা, এইচবিবি ও কার্পেটিং প্রায় ৩৭.৫০ কিঃমিঃ রাস্তা, ৫১৪টি ব্রীজ/ কালভার্টের মধ্যে ৮১টির মত ব্রীজ / কালভার্টের এবং ২১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৬০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হতে পারে।

 

 

০৪

পটিয়া

 

প্রায় ১৭৬ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা,  এইচবিবি ১৪৫ কিঃমিঃ,১৩৬ টি কাল ভার্ট, প্রায় ১৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রায় ১২টি মন্দির, প্রায় ২৪ টি হাটবাজার ও প্রায়  ৯টি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

১১০ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা ও  এইচবিবি প্রায় ৯৬ কিঃমিঃ রাস্তা

 

জলাবদ্ধতায় ১১০ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা ও ৯৬ কিঃমিঃ এইচবিবি রাস্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতি হয়ে থাকে ।

০৫

চন্দনাইশ

মোট ৫টি ইউনিয়নের ৪৬ কি.মি. রাস্তা নদী গর্ভে বিলিন হতে পারে।

১০৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হতে পারে।

২৫-৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কালবৈশাখী ঝড়ে।

 

 

০৬

সীতাকুন্ড

 

ঝড়/জলোচ্ছ্বাস হলে৩০১.৪০ কিঃমিঃ এর মধ্যে  প্রায় ৫৫ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তা,  এইচবিবি ৭৩.৫৫ কিঃমিঃ এর মধ্যে প্রায় ২৫ কিঃমিঃ,

৩৯৭ টি কাল ভার্ট এর মধ্যে প্রায় ৩০টি কালভার্ট, ২২১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৮০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪০৮টি মসজিদের মধ্যে ১৮০টি, ১৩৯ টি মন্দিরের মধ্যে প্রায় ২০টি মন্দির, ৩৪টি হাট বাজারের মধ্যে প্রায় ৮টি হাটবাজার,

৩৯৭ টি কালভার্ট এর ক্ষতি হতে পারে।

 

৩২ কিঃমিঃ কাঁচা  ও প্রায় ১৯  এইচবিবি কিঃমিঃ রাস্তা এবং ৩৬টি কালভার্টের ক্ষতি হতে পারে।

২২১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

 

০৭

হাটহাজারী

 

 

৮১ কিঃমিঃ কাঁচা  ও প্রায় ৬৪ এইচবিবি কিঃমিঃ রাস্তা ক্ষতি হতে পারে।

-

১২১.৫ কিঃমিঃ কাঁচা রাস্তার মধ্যে ৮৯ কিঃমিঃ ক্ষতি হতে পারে।

০৮

মীরেরস্বরাই

১৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

২৫% শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হতে পারে। হঠাৎ কালবৈশাখীর আঘাতে ৫৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত হতে পারে।

বন্যায় ৩০ কি.মি. রাস্তা ক্ষতি হতে পারে।

পাহাড়ী ঢলে ২৭৭.৭৫কি.মি. রাস্তা ক্ষতি হতে পারে।

 

 

ঘরবাড়ী

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদি ভাঙ্গন

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০১

ফটিক ছড়ি

 

কালবৈশাখী ঝড়ে ৯১২৭২ ঘরবাড়ীর মধ্যে ২৯০১০ ক্ষতি হতে পারে।

৯৮২৭২ঘরবাড়ীর মধ্যে ৩০২২০ ক্ষতি হতে পারে।

১,০০,৯০০ঘরবাড়ীর মধ্যে ২০,০০০ক্ষতি হতে পারে।

০২

লোহাগড়া

১৫৫০০ পরিবার ক্ষতি হতে পারে।

 

২৩৪৯ টি কাচাঁ ঘরবাড়ী ক্ষতি হতে পারে।

১৫৫০০ পরিবার ক্ষতি হতে পারে।

০৩

সাতকানিয়া

নদী ভাঙ্গন হলে চরতী, খাগরিয়া, আমিলাইশ, নলুয়া, কালিয়াইশইউনিয়নে  ঘরবাড়ী  বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে ।

আধা পাকা ১৫,৫৫০ এবং কাচা-৫৪,৭১০টি ঘরবাড়ীর  মধ্যে যথাক্রমে ১৫,৫৫০ টি আধাঁ পাকা এবং ৫৪,৭১০টি কাঁচা ঘরবাড়ী র ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৭৬,৯৬০ টি ঘরবাড়ী র  মধ্যে প্রায় ৩৮,৪৮০ টি কাঁচা ঘরবাড়ী   ক্ষতি হতে পারে।

৭৬,৯৬০ টি ঘরবাড়ীর মধ্যে ৩৩,৪৫০টিঘরবাড়ীর ক্ষতি হতে পারে।

০৪

পটিয়া

 

কালবৈশাখী ঝড়ে ৫৬৫২৪ঘরবাড়ীর মধ্যে ৩২৬৯০ ক্ষতি হতে পারে।

 

১৬৫০০ ঘরবাড়ীর ক্ষতি হতে পারে।

০৫

চন্দনাইশ

 

কালবৈশাখী ঝড়ে ৩৮২৭২ ঘরবাড়ীর মধ্যে ১২৫১০ ক্ষতি হতে পারে।

৩৮২৭২ ঘরবাড়ীর মধ্যে প্রায় ৮২২০ক্ষতি হতে পারে।

৩৮২৭২ ঘরবাড়ীর মধ্যে প্রায় ৪৮৯০টিক্ষতি হতে পারে।

০৬

সীতাকুন্ড

 

 

৭৩৩১৫ ঘরবাড়ীর মধ্যে প্রায় ৩৫৪০ক্ষতি হতে পারে।

 

০৭

হাটহাজারী

হাটহাজারী উপজেলায় হলদা নদী প্রবাহিত হওয়ায় বর্ষামৌসুমে কিছু ইউনিয়ন যেমন, নাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী, দক্ষিণ মাদার্শা, মেখল ও বুড়িশ্চর ইউনিয়নে মোট ২৪১৮৫ পরিবারের মধ্যে ৮৬৬৮ নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

প্রতি বছরই হাটহাজারী উপজেলায় ঝড়ে আঘাত হানে। এই উপজেলায় মোট কাচাঁ ঘরবাড়ী পরিবারের সংখ্যা ২৯০২০। ঝড়ে প্রায় ৮৬৫০ টি কাচাঁ ঘরবাড়ী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় । 

বন্যায় হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া, গুমানমর্দ্দন, ছিপাতলী, গড়দুয়ারা, ধলই, দক্ষিণ মাদার্শা, মেখল ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়নগুলোর কাচাঁ ঘরবাড়ীর বেশী ক্ষতি হয় । এই উপজেলায় মোট কাচাঁ ঘরবাড়ী পরিবারের সংখ্যা ২৯০২০। বন্যায় প্রায় সব কাচাঁ ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

বর্ষা ম্যৗসুমে পাহারী ঢল হলে হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ, মির্জাপুর, মেখল, চিকনদন্ডী, দক্ষিণ মাদর্শা ও ফতেপুর ইউনিয়ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতি সাধিত হয়।

০৮

মীরেরস্বরাই

১৩৯৫ টি ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলিন  হতে পারে।

ঝড়ে ৬০% কাচঁ ঘরবাড়ী ক্ষতি হতে পারে।

৩৮% ঘরবাড়ী বন্যায় নিমজ্জিত হতে পারে।

১৬% কাঁচা ঘরবাড়ী ক্ষতি হতে পারে।

পশুসম্পদ

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদি ভাঙ্গন

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০১

ফটিক ছড়ি

 

 

২৭৩০৮৩ পশুপাখির মধ্যে ৬৯৩৬৯পশুপাখির ক্ষতি হতে পারে।

২৪৩০৩২ পশুপাখির মধ্যে  ৪৭০৯৫পশুপাখির ক্ষতি হতে পারে।

০২

লোহাগড়া

 

 

৮০৭৩ পশুপাখির ক্ষতি হতে পারে।

 

০৩

সাতকানিয়া

-

-

৯৭৭৫পশুপাখির ক্ষতি হতে পারে।

৯২৯৩০পশুপাখির ক্ষতি হতে পারে।

০৪

পটিয়া

 

১৯২৮৫০

 

 

০৫

সীতাকুন্ড

 

৮০২৪০

৭৪৪০৬৭ পশুপাখির মধ্যে  ২৭৮৪৯৫পশুপাখির ক্ষতি হতে পারে।

 

 

গাছপালা

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদি ভাঙ্গন

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

লবনাক্ততা

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০১

ফটিক ছড়ি

 

৮৩৯৪০ গাছ ও ৯১ টি নার্সারীর কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতি হতে পারে।

৪৩৯৮০ গাছ ও ৯১ টি নার্সারী ক্ষতি হতে পারে।

 

৫৫৯৫৫ টি গাছ ও১২০ নার্সারী

০২

লোহাগড়া

 

 

২২২১১ গাছপালার ক্ষতি হতে পারে।

 

 

০৩

সাতকানিয়া

নদী ভাঙ্গনে  চরতী, খাগরিয়া, আমিলাইশ, নলুয়া, কালিয়াইশইউনিয়নে নদী ভাঙ্গন শুরু হলে গাছপালার ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হয়ে থাকে

সকল ইউনিয়নের গাছপালার ক্ষতি হয়ে থাকে।

১২০,৫০০ গাছ ও ২৫০ টি নার্সারীর ক্ষতি হতে পারে।

৫০,৪০০ গাছ ও ৩৯০ টি নার্সারীর ক্ষতি হতে পারে।

 

০৪

পটিয়া

 

প্রায় ৭৪৩০ টি নার্সারীর চারা গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

প্রায় ৫৯৫ টি নার্সারীর চারা গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

১০৭০টি নার্সারীর  চারা গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

 

০৫

চন্দনাইশ

দোহাজারী, বরমা, বরকল, ধোপাছড়ি বৈলতলী,  ৫টি গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।

৭৮০৫৫ টি গাছ ও  ১০৬ টি নার্সারী কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতি হতে পারে।

৮৩৯৮০ গাছ ও ৯১  টি নার্সারী ক্ষতি হতে পারে।

১৫৩ টি নার্সারীর মধ্যে ৬২  টি নার্সারী ও ৩৫৬০০ গাছের ক্ষতি হতে পারে।

 

০৬

সীতাকুন্ড

-

৫৫২০১ গাছ ও প্রায়৭৪৮টি নার্সারীর মধ্যে প্রায় ২৫০টি নার্সারী চারা গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

৮০৫০০ ও ২২০ টি নার্সারী ক্ষতি হতে পারে।

প্রায়৭৪৮টি নার্সারীর মধ্যে প্রায় ৯৭ টি নার্সারীর চারা গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

 

প্রায় ৫০২০০ টি গাছ-পালার  এবং ৭৪৮টি নার্সারীর মধ্যে প্রায় ১২০টি নার্সারী চারা গাছের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

 

মৎস

 

ক্রমিক নং

উপজেলার নাম

নদি ভাঙ্গন

ঝড় জলোচ্ছ্বাস

বন্যা

পাহাড়ী ঢল

জলাবদ্ধতা

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

ক্ষতি

০১

ফটিক ছড়ি

 

 

১৪০৭১জন মৎসজীবির মধ্যে ৫২৬৭ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

পুকুরের ১৯৮৯ টি পুকুরের মধ্যে ১৭৫ টি পুকুরের মাছের  ক্ষতি হতে পারে।

 

০২

লোহাগড়া

১২৫০ টি মৎস খামারের ক্ষতি হতে পারে।

-

-

৭৮২০ জন মৎস্যজীবির ৩৪৬৬ জন মৎস্যজীবির  ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

১১১০২ টি পুকুরের মধ্যে  ৪৩৪ পুকুরের মাছের  ক্ষতি হতে পারে।

০৩

সাতকানিয়া

আমিরাইষ, চরতি, নলুয়া, খাগরিয়া,  ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ মৎস্যজীবি ও প্রায় ৩০০টি পুকুর নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

২০০০ টি পুকুর এর মাছ ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং ৩০০ টি মৎস্যজীবি পরিবারের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোট পুকুরের ৪৮৭০ টি পুকুরের মধ্যে ২৪০টি পুকুরের মাছের  ক্ষতি হতে পারে।

 

০৪

পটিয়া

১৬৫০০ জন মৎস্যজীবির ১২৬০ জন মৎস্যজীবির  ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

পুকুরের ৩৭১৮ টি পুকুরের মধ্যে ২৩৯০ টি পুকুরের মাছের  ক্ষতি হতে এবং ২২৯৩টি মৎস্যজীবি ক্ষতি হয়

১০৯৩২ জন মৎস্য জীবির মধ্যে প্রায় ৪৯৩৪ জন মৎস্যজীবি ক্ষতি হয়

পুকুরের ১৫১১টি পুকুরের মধ্যে ৬৭২ টি পুকুরের মাছের  ক্ষতি হয়েছে।

০৫

চন্দনাইশ

১৩২০৬ জন মৎসজীবির মধ্যে ৫৩৮ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

 

১৭৫৩১ জন মৎসজীবির মধ্যে ৬৯৩৪ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

১৮৮৯ টি পুকুরের মধ্যে ১৭৫ টি পুকুরের ক্ষতি হতে পারে।

 

০৬

সীতাকুন্ড

বেড়ী বাঁধ সংলগ্ন ৩৮৫৭টি পুকুরের মধ্যে  ৩০০টি পুকুরের ক্ষতি হয়ে থাকে ।

 

৩৮৫৭টি পুকুরের মধ্যে প্রায় ১৪৩০ টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে যায় ।

৩৮৫৭টি পুকুরের মধ্যে প্রায়  ৯৫০ টি পুকুরের মাছ বন্যায় ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে

১০৯৩২ জন মৎসজীবির মধ্যে ৪৯৩৪ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

 

 

০৭

হাটহাজারী

৭৩৩০ জন মৎসজীবির মধ্যে ৩৩২৮ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

-

১৮৪৯ টি পুকুরের মধ্যে ১৪৪২ টি পুকুরের ক্ষতি হতে পারে। ১৪২৬ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

১২৮০০ জন মৎসজীবির মধ্যে ২৩৬০ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

১৪১৫ টি পুকুরের মধ্যে  ৮৭৩ পুকুরের মাছের  ক্ষতি হতে পারে।

০৮

রাংগুনীয়া

৮৬৮ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

 

১৪১২ টি বন্যায় ঢুবে যেতে পারে এবং ১৮০৮ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

২১৭০ জন মৎসজীবির ক্ষতি হতে পারে।

বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ৬৪৪ পুকুরের মাছ চাষের ক্ষতি হয়।

০৯

মীরেরস্বরাই

 

৩৮২৭  টি পুকুরের মাছচাষের ক্ষতি হতে পারে

১৫৪৩ টি পুকুরেরর মাছচাষের ক্ষতি হতে পারে

 

 

 

 


২.১৩  জলবায়ূ পরিবর্তন এবং তার সম্ভব্য প্রভাবঃ

 

খাতসমূহ

বর্ননা

কৃষি

চট্টগ্রাম জেলায় বিভিন্ন দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বছরের বিভিন্ন সময় যে দুর্যোগগুলো হয় তাতে কৃষিখাতে বন্যা, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস , নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢল ও জলাবদ্ধতায় যথাক্রমে প্রায় ২৬%, ১৪%, ৭%, ২১% ও ৯% আবাদী জমির ফসলের ক্ষতি হয়।

 

ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ৬ টি (ফটিকছড়ি, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সীতাকুন্ড ও হাটহাজারী) উপজেলার মোট ২৭৫৩১১ একর জমির মধ্যে ৩৬৯২৬ একর জমির ফসল নষ্ট হয়। ৯ উপজেলার মোট ৫৩৮৫৮ একর  ফসলের ক্ষতি হয় । বন্যায় ৯টি (ফটিকছড়ি,লোহাগড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, রাংগুনীয়া ও মীরেরস্বরাই )   উপজেলার মোট ৮০৯৭৫ একর  ফসলের ক্ষতি হয় ।নদী ভাঙ্গনে ৬টি উপজেলার মোট ১১০৯৮৯ একর জমির মধ্যে ৯৫৭০ একর জমি নদী ভাঙ্গনের শিকার হতে পারে।

 

জলবায়ুর পরিবর্ত ও তার সম্ভাব্য প্রভাবে কৃষি ক্ষেএে বিরম্নপ প্রভাব পড়েছে যা আমরা বিগত দিনগুলোর এই এলাকার চিত্র থেকে পাই। জলবায়ুর প্রভাবের কারণে কর্নফুলি নদীর পানিতে লবনাক্ততা বৃদ্দি পাওয়ায়  সেচ কাজ বাধা গ্রস্থ হচ্ছে এবং আগের তুরনায় সময অসময় জলোচ্ছ্বাস , সাইক্লোনও, জলাবদ্ধতা, বন্যা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ায কৃষি ক্ষেত্রে পরছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।

মৎস্য

চট্টগ্রাম জেলায় বিভিন্ন দুর্যোগে মৎস খাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয় । মৎস খাতে  বিভিন্ন দুর্যোগে বন্যা, নদী ভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢল  ও জলাবদ্ধতায় যথাক্রমে প্রায় ৫০%, ১৪%, ৩৪% ও ১১% পুকুরের মাছের ক্ষতি হয়। বন্যায় ৬টি উপজেলায় ৯৬৯৭টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং বন্যায় ৭টি উপজেলায় ১৮০২৮ জন মৎসজীবি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পাহাড়ী ঢলে ৬টি উপজেলার ১৭৮৬৪ জন মৎসজীবির ক্ষতি হয়েছে। নদীভাঙ্গনে ৬টি উপজেলায় ৭৪৯৪ জন মৎসজীবি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে  অর্থ্যাৎ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস , নদীভাঙ্গন, পাহাড়ী ঢল অতিবৃষ্টি ইত্যাদি আপদের কারণে মৎস্য ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। মাছ চাছের ক্ষেত্রে নেতীবাচক প্রভাব পড়ে। এতে বাজারে মাছের সরবরাহ কমে যায় ফলে সাধারণ মানুষ পুষ্টি হীন হয়ে পড়ে। মাছ চাষীদের ব্যবসায় ক্ষতি হয়।  চাষীরা কার্যতঃ বেকার হয়ে পড়ে। মৎস্য শিল্প ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয়।

পশুপাখি

বন্যা ও পাহাড়ী ঢল যথাক্রমে প্রায় ৩৪%, ১৯% পশূপাখির ক্ষতি হয় । ফটিক ছড়ি, লোহাগড়া, সাতকানিয়া ও সীতাকুন্ড বন্যায় মোট ৩৬৫৭১২ পশুপাখি ক্ষতিগ্রস্থ হয় । ১৯৯১ সালের চট্টগ্রাম জেলার সিতাকুন্ড ও পটিয়ায়  উপজেলায়  ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে  ২৭৩০৯০ পশুপাখি মারাত্নক  ক্ষতি হয়।  দরিদ্র পরিবারগুলোতে গৃহপালিত পশুপাখি আমিষ ও অর্থের যোগান দেয়। পশু সম্পদের উপর অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল। গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরূ কৃষিকাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। বিভিন্ন দুর্যোগে পশু সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি  গ্রামীন জনগণের জীবনে মারাত্নক অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। এত দরিদ্র পরিবারগুলো আরো দারিদ্রতার মধ্যে জীবন-যাপন করে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন আপদের কারণে পশুসম্পদ খাতে বিশেষ করে ঝড়  ও জলোচ্ছ্বাসে  ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে যা পূর্বে ক্ষয়-ক্ষতির মাত্রা বেড়ে গেছে।

গাছপালা

১৯৯১ সালের ঝড়ে চট্টগ্রাম জেলার কয়েকটি উপজেলায় (ফটিক ছড়ি, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সীতাকুন্ড)  মোট ২১৭২৩৬ পাছপালা ও ৪৪৭ নার্সারী মারাত্নক ভাবে ক্ষতি হয় । বন্যায় ৬টি উপজেলায় প্রায় ৩৯১১৭১ টি গাছ ও ১২৪৭টি নার্সারী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এবং পাহাড়ী ঢলে সিতাকুন্ড, চন্দনাইশ ও সীতাকুন্ড মোট ৮৬০০ গাছ ও ৪৫২ টি নার্সারীর ক্ষতি হয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে  ঘন ঘন ঝড় জলোচ্ছ্বাস  ও টর্নেডোর আঘাতের কারণে  প্রচুর পরিমানে ফলজ, বনজ ও ওষধী বৃক্ষের ক্ষতি সাধিত হয়। জ্বালানী  ঘাটতি  ব্যপক আকার ধারন করে। ফলজ গাছ নষ্ট হওয়ায়  বাজারে  মৌসুমী ফলের সরবরাহ কমে যায় ফলে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষের এুয় ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। এতে করে মানুষ পুষ্টিহীন হয়ে পড়ে। ঘন ঘন বন্যা হওয়ার কারণে   দেশে ভৌগলিকভাবে যে পরিমান বন থাকার কথা তার চেয়ে নিতান্তই  কম আছে। তথাপি প্রতি বছর বিভিন্ন সময়ে বন্যায় আক্রান্ত  হয়ে প্রচুর পরিমানে চারা গাছপালা  পানিতে তলিয়ে এবং বন্যার পানি দীর্ঘ স্থায়ী হওয়ায় ফলজ গাছ পালা মারা যায়। ফলে অর্থনীতিতে ব্যপক প্রভাব ফেলে।

ঘরবাড়ী

অবকাঠমো

বিভিন্ন দুর্যোগে চট্টগ্রাম জেলায় ঘরবাড়ী ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতি হয় বিশেষ করে ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ,  বন্যায় এবং পাহাড়ী ঢলে কাচা ঘরবাড়ীর অধিকাংশই বিধ্বস্ত হয়। চট্টগ্রাম জেলায়  ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ,  বন্যায় এবং পাহাড়ী ঢলে যথাক্রমে ৫৬%,  ২৮% ও ২৭% ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। নদীভাঙ্গনে লোহাগড়া, হাটহাজারী ও মীরেরস্বরাই  এ ২৫৫৬৩টি পরিবারের ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে আশ্রয়হীন হতে পারে। ৫টি উপজেলায় ঝড়ে ও জলোচ্ছ্বাসে এবং বন্যায় যথাক্রমে ১৫২৯২০ ও ৮২৮০২ কাচাঁ ঘরবাড়ীর ক্ষতি হয়েছে। ৩৬৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়। ৪৭৪ কি.মি. কাচঁ ও পাঁকা রাস্তার ক্ষতি হয়। বন্যায় চট্টগ্রাম জেলায় ৯৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১১০৫ কি.মি. কাচাঁ রাস্তা ও পাঁকা রাস্তা  এবং ৩১১ টি কালভার্ট ও ব্রীজ ৫৭৯ টি  ক্ষতি হয়েছে। লোহাগড়া ও মীরেরস্বরাই  উপজেলায়  পাকাসহ মোট ১৬৮৩৫ টি ঘরবাড়ী নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বেশকিছু  অবকাঠামোওর ক্ষতি হয়েছে।

পয়নিস্কিাশন

চট্টগ্রাম জেলায় মোট কাচাঁ পায়খানার ঝড় ও জলোচ্ছ্বাস  এবং বন্যা ৪০% ও ২৯% ক্ষতিগ্রস্থ হয় । এবং পাহাড়ী ঢলে প্রায় ২৭% পায়খানা ক্ষতিগ্রস্থ হয়।  বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে যাওয়ার ফলে পানি দূষিত হয়ে য়ায়। এতে বিভিন্ন পারিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব  ঘটে। বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে  আক্রান্ত এলাকায় ডায়রিয়াসহ কলেরা, আময়শা, জন্ডিস ও বিভিন্ন চর্ম রোগ দেখা যায়। প্রতি বছর  বিভিন্ন দুর্যোগে ৩%-৬% লোক বিভিন্ন রোগে হয় ।

স্বাস্থ্য

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন আপদের কারণে  স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও এর ক্ষতির প্রভাব পড়েছে । বন্যায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব  ঘটে । যেমন ডায়রিয়া, কলেরা, আময়শা,  জন্ডিস, চর্মরোগ ইত্যাদি রোগে ৩%-৬% আক্রান্ত হয়। বিগত জলোচ্ছ্বাসে  প্রচুর লোক মারা গিয়েছে।

জীবিকা

জীবন জীবিকায় জলবায়ুর পরিবর্তনে সৃষ্টি দূর্যোগগুলো বন্যা, ঝড়জলোচ্ছ্বাস , খরা, অতিবৃষ্টি। সাধারন মানুষের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হলো কৃষিকাজ, জেলে, শ্রমজীবি, দিনমজুর ইত্যাদি। জলবায়ু পরিবর্তনে দূর্যোগ গুলোর কারণে  উক্ত পেশায় জীবিকা নির্বাহ করা সাধারন মানুষের কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এই সকল উপায়ে যখন তারা জীবিকা ধারন করতে পারে না তখন এই সকল মানুষ গুলো শহর মুখী হয়ে পড়ে এবং দিনমজুরের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

পানি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশুদ্ধ খাবার পানির প্রকট সমস্যা হয়। কারন ভূ-পৃষ্টের /ভূ-গর্ভস্থের পানির স্থর নীচে নেমে যাওয়ার ফলে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দেয়। টিউবওয়েল অনেক গভীরে বসাতে হয় বলে ব্যয় বেড়ে যায়। পুকুর এবং নদীর পানি লবনাক্ততার কারণে  সেচের এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়।