মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

আবদুল হক (বীর বিক্রম)

 

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

আবদুল হকের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মোহাম্মদ সুকানী এবং মায়ের নাম সাহেরা খাতুন। তাঁর স্ত্রীর নাম খতিজা বেগম। তাঁদের ছয় ছেলে ও এক মেয়ে।

কর্মজীবন

আবদুল হক চাকরি করতেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। এর অবস্থান ছিল যশোর সেনানিবাসে। ৩০ মার্চ তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তিযুদ্ধে। বৃহত্তর সিলেটের ধলই, এমসি কলেজসহ আরও কয়েক স্থানে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারীতে। ১৯৭১ সালে রৌমারী থানা (বর্তমানে উপজেলা) মুক্ত ছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনী রৌমারী দখলের জন্য জুলাই মাসের শেষ থেকে একের পর এক আক্রমণ পরিচালনা করে। আগস্ট মাসের প্রথমার্ধে শুধু রৌমারীর একাংশ কোদালকাঠি দখল করতে সক্ষম হয়। এখানে অবস্থান নিয়ে তারা রৌমারী থানাসদর দখলের চেষ্টা করতে থাকে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী বারবার আক্রমণ করেও মুক্ত ভূখণ্ড দখল করতে ব্যর্থ হলো। তারা বারবার আক্রমণ করছে একটি কারণে, ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের জাতীয় দিবস। এর আগেই মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা দখল করে সেখানে পাকিস্তানি পতাকা উত্তোলন করতে হবে। ১৪ আগস্ট পতাকা তোলার স্বপ্ন ভেঙে খানখান হওয়ায় পাকিস্তানি সেনারা মুক্ত এলাকা দখলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। এতে মুক্তিবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান কিছুটা নাজুক হয়ে পড়ে। তখন আবদুল হকসহ এক দল নতুন মুক্তিযোদ্ধা সেখানে এসে অবস্থান নেন। ১৬ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আবার আক্রমণ চালায়। আবদুল হকসহ নতুন মুক্তিযোদ্ধারা যে প্রতিরক্ষা অবস্থানে ছিলেন, সেখানেই পাকিস্তানি সেনারা আক্রমণ করে। এরপর সেখানে তুমুল যুদ্ধ হয়। আবদুল হক ও তাঁর সহযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধ করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২১, ২৪ ও ২৬ সেপ্টেম্বর আবার সেখানে আক্রমণ করে। এর মধ্যে ২১ ও ২৪ সেপ্টেম্বরের আক্রমণ ছিল ভয়াবহ। বহুসংখ্যক গানবোট, স্টিমার ও লঞ্চ নিয়ে তারা সোনাভরি নদীর মোহনা হয়ে অগ্রসর হয়। ব্যাপক ফায়ার সাপোর্টের সাহায্য নিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানে উঠে পড়ার চেষ্টা করে। আবদুল হক ও তাঁর সহযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন।