মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সিটিজেন চার্টার

 

সেবা জনগণের জন্য। মানুষ নিরাপদ ও উপদ্রবহীন জীবন যাপন করতে চায়। প্রত্যুষে ঘুম থেকে জেগে দুষণমুক্ত বায়ুতে বুক ভরে শ্বাস নেবার প্রত্যাশায় প্রত্যেকে বাতায়ন খোলে। কাজের উদ্দেশ্যে পরিচ্ছন্ন রাস্তায় হেঁটে যেতে চায়। মানুষ শিক্ষা চায় তার নিজের জন্য, সন্তানের জন্য আর যারা নির্ভরশীল তাদের জন্য। মানুষের প্রয়োজন সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থা ও নিরাপদ পরিবেশ। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ গরীব ও মেধাবী ছাত্রদের আর্থিক পৃষ্ঠ পোষকতা সহ সকলের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টিতে সদা তৎপর। তাই উন্নত আদর্শ সেবার পরিবেশ সৃষ্টি ও STAR (S for Simple, T for Transparent, A for Accountable, R for Responsive) System in Governance অর্জনের জন্য এ নাগরিক সেবা নির্দেশিকা (Citizens’ Charter) প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সকলের সামগ্রিক সহযোগিতা এ উদ্যোগকে সফল ও সার্থক করে তুলবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

উদ্দেশ্যঃ

সুশাসনই উন্নয়ন আর প্রশান্তির মুল চালিকা শক্তি। প্রশাসন ও নাগরিকের সর্ম্পকের স্বরূপই নির্দেশ করে সুশাসনের অবস্থান কোথায় ? প্রশাসন ও নাগরিক সম্পর্ক একটি আপেক্ষিক বিষয় যা সময়, পরিস্থিতি, প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ইত্যাদি কারণে মাপকাঠিতে উঠানামা করে। তারপরও আমরা চাই সুশাসন সর্বস্তরে। যার উদ্দেশ্য আমাদের নিম্নোক্ত পদক্ষেপ সমূহ-

1. জেলা পরিষদ প্রদত্ত সেবাসমুহের সকল তথ্য জনগণের জন্য উম্মুক্তকরণ :

2. জনগণের দু:খ-দুর্দশা সম্পর্কে সময়মত অবহিত হওয়া ও তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য একটি নিখুঁত পদ্ধতি প্রতিষ্ঠাকরণ:

3. জনগণ ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস এবং সহযোগিতার মনোভাব সৃজন ও গন সচেতনতা বৃদ্ধি করা;

4. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিশ্চিতকরণের জন্য প্রশাসন ও জনগণের সম্পর্কে সহজ-সরল ও বাধামুক্তকরণ;

5. সময়ের দাবী অনুসারে জেলা পরিষদের সকল কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় অংশ গ্রহণের প্রক্রিয়া ও পরিবেশ সৃষ্টির জন্যে ই-গভর্নেন্স পদ্ধতির প্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ।

6. জেলা পরিষদের সকল সেবা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, দক্ষতা, জন-বন্ধুত্ব ও গতিশীলতাকে প্রাধান্য দেয়া।

 

শতাব্দী প্রাচীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যাবলী বিভিন্ন সময়ে প্রনীত আইন ও অধ্যাদেশ মোতাবেক পরিচালিত হয়ে আসছে। লোকাল সেলফ গভর্ণমেন্ট এ্যাক্ট ১৮৮৫ বলে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন ডিষ্ট্রিক্ট বোর্ড বর্তমানকালের জেলা পরিষদ ১৮৮৭ সালের ৫ই এপ্রিল থেকে জেলাধীন আপামর জনসাধারনের জন্য বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

 

মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ ১৯৫৯ বলে নতুনভাবে সৃষ্ট ডিষ্ট্রিক্ট কাউন্সিল এর কার্যাবলী বাধ্যতামূলক এবং ঐচ্ছিক এই দুই ভাগে বিভক্ত করে। বাধ্যতামূলক কার্যাবলীর মধ্যে ২৮টি এবং ঐচ্ছিক কার্যাবলীর মধ্যে ৭০ টি কাউন্সিলের আওতায় আনা হয়। গত ২২-৯-১৯৭৬ সনে বাংলাদেশ গেজেট এক্সট্রা অর্ডিনারী-তে প্রকাশিত লোকাল গর্ভণমেন্ট অধ্যাদেশ ১৯৭৬ এর ৩৬ (১) আদেশবলে উক্ত অধ্যাদেশের তৃতীয় তফসিলের পার্ট-১ এ ২৭টি বাধ্যতামূলক এবং পার্ট-৩ এ ৩৭টি ঐচ্ছিক কার্যাবলীর বিবরণ রয়েছে।

 

স্থানীয় সরকার জেলা পরিষদ আইন ১৯৮৮-তে জেলা পরিষদের কার্যাবলী আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক নামে দুই ভাবে বিভক্ত ছিল। সর্বশেষ জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ এর প্রথম তফসিলের প্রথম অংশে নিম্নেবর্ণিত ১২টি বাধ্যতামূলক কাজের উল্লেখ আছে। জেলা পরিষদের কার্যক্রম বা এর উপর অর্পিত দায়িত্ব সমূহ :

১. জেলার সকল উন্নয়ন কার্যক্রমের পর্যালোচনা- চেয়ারম্যান পদ শুন্য থাকায় ১ ও ২নং ক্রমিকে উল্লেখিত

২. উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন কাজ দুটি বর্তমানে জেলা উন্নয়নপ্রকল্প সমুহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা। সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

৩. সাধারন পাঠাগারের ব্যবস্থা ও উহার রক্ষনা বেক্ষনা বেক্ষন।

৪. উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা বা সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত নহে এই প্রকার জনপথ,কালর্ভাট ও ব্রীজ এর নির্মান রক্ষনা বেক্ষন এবং উন্নয়ন।

৫. রাস্তার পার্শ্বে ও জনসাধারনের ব্যবহৃত স্থানে বৃক্ষ রোপন ও উহার সংরক্ষন।

৬. জনসাধারনের ব্যবহৃত স্থানে উদ্যান, খেলার মাঠ এবং উন্মুক্ত স্থানের ব্যবস্থা ও উহাদের রক্ষনা বেক্ষন।

৭. সরকারী উপজেলা পরিষদ বা পৌরসভার রক্ষনাবেক্ষনে নহে এমন খেয়াঘাটের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ।

৮. সরাইখানা, ডাকবাংলো এবং বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা ও রক্ষনা বেক্ষন।

৯. জেলা পরিষদের অনুরূপ কার্যাবলী সম্পাদনরত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সংগে সহযোগিতা।

১০. উপজেলা ও পৌরসভাকে সহায়তা, সহযোগীতা এবং উৎসাহ প্রদান।

১১. সরকার কর্তৃক জেলা পরিষদের উপর অর্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন।

১২. সরকার কর্তৃক আরোপিত অন্যান্য কাজ।

 

কারিগরী শাখার কার্যক্রম:

কাজের প্রকৃতি ও সম্পাদনের সময়সীমাঃ

প্রকল্প গ্রহণ : স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সংস্থাএবং প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে প্রাপ্ত আবেদনপত্র সমূহ বিবেচনা এবং যাচাই ও বাছাই করে নীতিমালা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক প্রকল্প যথা রাসত্মাঘাট, ব্রিজ-কালর্ভাট নির্মান/পুন:নির্মান সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ।

প্রকল্প অনুমোদন : গৃহীত প্রকল্প সমূহ প্রাথমিকভাবে জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটিতে অনুমোদনের পর মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। মন্ত্রণালয় হতে চুড়ামত্ম অনুমোদন প্রাপ্তির পর বাসত্মবায়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।দরপত্র আহবান ও গ্রহণ:পিপিআর-২০০৮ অনুসরনে ২৮দিনের মধ্যে দরপত্র

আহবান ও গ্রহনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। দরপত্র মূল্যায়ণ : পিপিআর/২০০৮অনুসরনে দরপত্র গ্রহনের ১৪ দিনের মধ্যে দরপত্র মূল্যামানের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

দরপত্র অনুমোদন : ২৫.০০ (পঁচিশ) লক্ষ টাকার নীচের মূল্যমানের প্রকল্প সমূহ জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে অনুমোদন করা হয়। ২৫.০০ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যমানের একক প্রকল্প সমূহ চুড়ামত্ম অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়। দরপত্র গ্রহনের পরবর্তী ৪(চার) সপ্তাহের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়।

NOA প্রদান : পিপিআর/২০০৮ অণুসরনে দরপত্র গৃহীত হওয়ার ৩(তিন) দিনের মধ্যে NOA প্রদান করা হয় এবং ২(দুই) সপ্তাহের মধ্যে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়।

কাজ বাসত্মবায়নের: প্রকল্পের প্রকৃতি অনুযায়ী ১ মাস হতে ১২ মাস পর্যমত্ম সময়সীমা।

প্রকল্পের সময়বর্ধন  : সময় বর্ধন ও জামানত ফেরতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি জামানত ফেরত প্রদান সাপেক্ষে আবেদন করা হলে আবেদন গ্রহনের তারিখ হতে ১(এক) সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধামত্ম প্রদান করা হয়।

ঠিকাদারী লাইসেন্স ইস্যু: শ্রেণী ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি প্রদান সাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়। নতুন তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমেত আবেদন করলে অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে জেলা পরিষদ উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধামত্ম গ্রহণ পূর্বক বিভিন্ন শ্রেণীতে লাইসেন্স প্রদান করা হয়।