পূর্বতন মেয়র

 

চট্টগ্রাম পৌরসভা সংক্রামত্ম প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত্য হতে সংগৃহীত চেয়ারম্যান/ প্রশাসক এবং মেয়র মহোদয় গণের নাম ও সময়কাল

ক্রম

নাম

পদবী

সময়কাল

১.

মিঃ জে.ডি.ওয়ার্ড. (ডিস্ট্রিক ম্যাজিস্ট্রেট) চট্টগ্রাম

প্রশাসক

 

১৮৬৩-১৮৬৭

২.

মিঃ কর্কউড়

প্রশাসক

১৮৬৭-১৮৬৮

৩.

মিঃ সি.এ. স্যামুয়েলস

প্রশাসক

১৮৬৮-১৮৭৮

৪.

মিঃ এইচ.টি.এস. কটন

প্রশাসক

১৮৭৮-১৮৭৯

৫.

মিঃ সি.এ স্যামুয়েলস

প্রশাসক

১৮৭৯-১৮৮৪

৬.

ক্যাপটেন এ.আর.এস. এ্যান্ডার সন্স-

সিভিল সার্জন চট্টগ্রাম

প্রশাসক

 

 

৭.

মিঃ গুড

প্রশাসক

 

৮.

খান বাহাদুর আমান আলী

চেয়ারম্যান

১৯১৬-১৯১৯

৯.

খান বাহাদুর আবদুস সাত্তার- প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান

চেয়ারম্যান

১৯১৯-১৯২১

১০.

নুর আহাম্মদ

চেয়ারম্যান

১৯২১-১৯৫৪

১১.

রফিকুদ্দিন আহমদ সিদ্দিকী

চেয়ারম্যান

১৯৫৫-১৯৫৮

১২.

হাসান জহুর সি.এস.পি

প্রশাসক

১৯৫৮-১৯৫৮

১৩.

এন.আই. খান

প্রশাসক

১৯৫৮-১৯৫৯

১৪.

শামসুউদ্দিন আহম্মদ

প্রশাসক

১৯৫৯-১৯৫৯

১৫.

আবুল খায়ের

প্রশাসক

১৯৫৯-১৯৬০

১৬.

লেঃ কর্ণেল জহুরম্নল হাসান

চেয়ারম্যান ও প্রশাসক

১৯৬০-১৯৬৯

১৭.

এশরাত হোসেন

চেয়ারম্যান ও প্রশাসক

১৯৬৯-১৯৬৯

১৮.

শরাফত উলস্নাহ ই.পি.সি.এস

চেয়ারম্যান ও প্রশাসক

১৯৬৯-১৯৭২

১৯.

মোহাম্মদ আমজাদ সি.এস.পি

প্রশাসক

 

২০.

মোহাং হোসাইন ই.পি.সি.এস

প্রশাসক

১৯৭২-১৯৭২

২১.

এ.এন.এম. জাহেদ ই.পি.সি.এস

প্রশাসক

১৯৭২-১৯৭২

২২.

মীর এনায়েত হোসাইন ই.পি.সি.এস

প্রশাসক

১৯৭২-১৯৭৩

২৩.

ফজল করিম

চেয়ারম্যান

১৯৭৩-১৯৮২

চট্টগ্রাম পৌরসভা ১৯৮২ খ্রি: চট্টগ্রাম পৌর কর্পোরেশনে রূপামত্মরিত হয়

 

২৪.

বিগ্রেডিয়ার মফিজুর রহমান চৌধুরী

প্রশাসক

১৯৮২-১৯৮৬

২৫.

ব্যারিস্টার সুলতান আহমদ চৌধুরী

প্রশাসক

১৯৮৬-১৯৮৭

২৫.

মোঃ সেকান্দর হোসেন মিয়া

প্রশাসক

১৯৮৭-১৯৮৮

২৬.

মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী

প্রশাসক ও চেয়ারম্যান

১৯৮৮-১৯৮৯

 

চট্টগ্রাম পৌর কর্পোরেশন ১৯৮৯ খ্রি: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে রূপামত্মরিত হয়

২৭.

মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী

মেয়র

১৯৮৯-১৯৯০

 

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন

প্রশাসক

১৯৯১-১৯৯৩

২৮.

আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী

মেয়র

১৯৯৪-২০১০

২৯.

মোহাম্মদ মনজুর আলম

মেয়র

২০.০৭.২০১০ হতে  মার্চ ২০১৫

 

উপমহাদেশে ব্রিটিশ উপনিবেশ শাসনের প্রায় একশ বছর অতিক্রান্ত হলে চট্টগ্রামের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় নগরায়ণের আবশ্যকতা উপলব্ধি করে ব্রিটিশ সরকার ১৮৬৩ সালে ২২ জুন চট্টগ্রাম পৌরসভা স্থাপন করে। তবে সন এবং তারিখ নিয়ে চট্টগ্রামের ইতিহাস লেখকদের মধ্যে ন্যূনতম তিনটি মতভিন্নতা থাকলেও চট্টগ্রাম পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন নথিপত্রে ২২ জুন ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দ মর্মে উল্লেখ রয়েছে। একারণে বর্তমান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ সর্বসম্মতভাবে ২২ জুন ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দকে চট্টগ্রাম পৌরসভা প্রতিষ্ঠার সন-তারিখ হিসেবে গ্রহণ করে।

চট্টগ্রাম পৌরসভার ১৫০ বছরের সংক্ষিপ্ত চিত্র

বিধিবদ্ধ মিউনিসিপ্যাল বোর্ড গঠিত হওয়ার পূর্বে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দের  ১৪ই মে তারিখে, ‘কমিটি ফর দি স্যানিটারি ইমপ্রুভমেন্ট অব দি টাউন অব চিটাগাং’  গঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কমিশনার সি স্টিয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সদস্য হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সি চাপম্যান, ডব্লিউ বি বিটসন, জে স্প্যাঙ্কি, এইচ জে বেম্বার, ডব্লিউ এইচ হে-ারসন, জি সি ফ্লেচার, ঠাকুর বক্স তেওয়ারী ও হরচন্দ্র রায়।

১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে মিউনিসিপ্যালিটির প্রশাসন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮ জন কমিশনারের সমন্বয়ে একটি পরিষদ গঠিত হয়। এই পরিষদের দুজন নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হতেন, পাঁচজন কর্তৃপক্ষের পছন্দমতো অন্তর্ভূক্ত হতেন। একজন প্রাক্তন সরকারী কর্মচারি পরিষদের কমিশনার পদে নিযুক্ত হতেন। বাকি দশটি কমিশনার পদে বিভিন্ন প্রশাসনে নিযুক্ত উচ্চ পদস্থ ইংরেজ অফিসার নিয়োজিত থাকতেন।

সে সময়ে চট্টগ্রাম শহরের সাড়ে চার বর্গমাইল এলাকা মিউনিসিপ্যালিটির আওতাধীন  ছিল। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে (উনত্রিশে ডিসেম্বর), ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৮ এপ্রিল) বেঙ্গল গভর্নমেন্ট হুকুমানুসারে কতক অংশ গ্রহণ-বর্জন করা হলেও পৌর এলাকা উল্লেখিত আয়তনেই নির্দিষ্ট থাকে।

চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি প্রথকদিকে চারটি ওয়ার্ড-এ বিভক্ত ছিল। পরে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে আরো একটি ওয়ার্ড করা হয়। এই ওয়ার্ডগুলি A. B. C. D. E অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি তার সূচনকাল থেকেই শহরের অধিবাসীদের কাছ থেকে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানির হোল্ডিং ও জেটি কর, গৃহায়ণ কর, ভুমি কর এবং ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে পয়ঃনিস্কাশন কর আদায় করতে শুরু করে।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯০১-২ খ্রিস্টাব্দ অবধি মিউনিসিপ্যালিটির বাৎসরিক গড় আয় দাঁড়ায় ৫৮ হাজার টাকা। আর আলো, রাস্তা নির্মাণ পয়ঃপ্রণালী নির্মাণসহ বিভিন্ন গড় ব্যয় হয় ৫১ হাজার টাকা। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে টোল কর এবং ফেরি কর আরোপ করা হয়। ঐ বছর রাস্তা ও আস্তি মাহমুদ ফেরি ঘাটের কর বাবদ আয় হয় ৬৫০০ টাকা। ১৯০৫-৬ খ্রিস্টাব্দে বিভিন্ন খাতে কর আদায়ের সফলতার কারণে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটি পূর্ববঙ্গে প্রথম সরকারি অর্থ সাহায্যের তালিকায় নথিভূক্ত হয়। এই সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও রাস্তায় বাতির ব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।

প্রথম দিকে শহরের পানি সরবরাহের উৎস ছিল প্রাকৃতিক উপায়ে নিঃসরিত ঝরনা (যেমন  বদর ঝরনা, দোনালী ঝরনা, মাছুয়া ঝরনা ইত্যাদি)। সে সব ঝরনা থেকে নলের সাহায্যে বকশির হাট জলধারে পানি তুলে নেয়া হতো। তারপর বিতরণ করা হতো। কিন্তু জনগণের পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াতে ১৯১৫ সালে আধুনিক প্রক্রিয়ায় পানি পরিশোধন ও বিতরণ ব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া হয়। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে লর্ড কারমাইকেল চট্টগ্রামে এসে এই আধুনিক পানি পরিশোধন প্রক্রিয়া ও গভীর নল কুপটির প্রথম পানি সরবরাহের সূচনা করেন এবং শহরের ২৯ হাজার লোকের পানির চাহিদাও পূরণ হয়।

১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দ অবধি নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধা পূরণ ও রাস্তাঘাট উন্নয়নে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালটি সফলতার স্বাক্ষার রেখেছে।

১৯৫১ খ্রিস্টাব্দের আদম শুমারিতে দেখা যায় তখন শহরের মিউনিসিপ্যালিটির আওতাভূক্ত এলাকার মোট জনসংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ১৯ হাজার, এর মধ্যে ৮৬ হাজার পুরুষ ও ৩৩ হাজার নারী। তখন শহরের মধ্যে হলেও রেলওয়ে কলোনি, পাহাড়তলি, পতেঙ্গা, আগ্রাবাদ ইত্যাদি এলাকা মিউনিসিপ্যালিটির এলাকাধীন ছিল না। মিউনিসিপ্যালিটির আওতা বহির্ভূত ঐ শহর এলাকায় জনসংখ্যা ছিল দেড় লক্ষ। তার মধ্যে ৯০ হাজা পুরুষ ও ৬০ হাজার নারী । তখন শহরে শিক্ষিতের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। মোহাজেরদের সংখ্যা ছিল ১৮০০০।

১৯৪৮ এর পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন খাত থেকে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির আয় বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়ায় ১০,৩৬,০৬৩ টাকা এবং দশ বছর পরে এই আয় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ৪৩,৮৩,২৭২ টাকায় পৌঁছে যায়। ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ থেকে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি কমিটি প্রতি বছরই সরকারি অনুদান লাভ করতে থাকে। ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে মিউনিসিপ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স এর ধারা অনুযায়ী নতুনভাবে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি পুর্ণগঠিত হয়। মিউনিসিপ্যাল এলাকার আয়তন সম্প্রসারিত হয়ে ৫,৬৭০২ বর্গ মাইলে দাঁড়ায়। ১৯৬১-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী এলাকর লোক সংখ্যা ১৯০,৪১৪ জনে উন্নীত হয়।

১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের ১৪ জন প্রতিনিধিসহ ১৫০ জন সদস্য, একজন চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে নতুন পরিষদও গঠিত হয়। এ ছাড়া একজন বেতনভূক্ত স্থায়ী সচিব, জনসংযোগ অধিকর্তা, স্বাস্থ্য অধিকর্তা, ১৪ জন সুপারভাইজার, একজন প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী, ভারপ্রাপ্ত ওবারসিয়ার, দুইজন ওভারসিয়ার, শিক্ষা অধিকর্তা, মহিলা শিক্ষা পরিদর্শক ও দুইজন অভ্যর্থনা অধিকর্তা নিয়োগ করা হয়।

স্বাধীনতা য্ুেদ্ধাত্তরকাল থেকে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল জেনারেল হাসপাতালস্থিত ১৪ শয্যা বিশিষ্ট একটি কলেরা নির্মূল বিভাগ, অ্যামবুলেন্স ব্যবস্থা, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ ও নির্মূল ব্যবস্থা, ২টি ঔষধ বিতরণ কেন্দ্র, ১টি কসাইখানা, ৮টি উদ্যান, ২৭২টি পাকা ও কংক্রিট বাঁধানো রাস্তা, শ্মশান ও ১টি কবরখানা এবং শিক্ষা উন্নয়নকল্পে ২৪টি প্রাথমিক বালক,২৩টি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়, ২৩টি নিম্ন মাধ্যমিক বালক স্কুল,৬টি নিম্নমাধ্যামিক বালিকা বিদ্যালয় এবং ১টি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়। শিক্ষা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম মিউসিনিপ্যালিটি একটি ব্যতিক্রমী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালূ হয়, ১৯২৮-এ তা বাধ্যতামূলক করা হয়। ১৯৩২-এ অবৈতনিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় এবং ১৯৪০ এ বালিকাদের অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষাকে আবশ্যিক করা হয়। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাও বাধ্যতামূলক পর্যায়ে উন্নীত করা হয়।

চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটি ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে ১৬ই সেপ্টেম্বর কর্পোরেশনে পরিণত হয়। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ৩১শে জুলাই সিটি কর্পোরেশনের রূপ লাভ করে। পুরানো এলাকা সম্প্রসারিত হয়ে ৬০ বর্গ মাইলে বিস্তৃতি লাভ করে।